Wednesday, July 1, 2026

ছোট্ট প্রশ্ন

 প্রভু, বড় মন চাইছে,

একটি প্রশ্ন করি তোমায়

এই অবেলায়

তুরাগ নদীর তীরে

সন্ধেবেলায়

তুলসী তলায়।


যখন একটা পুরো নগর

জনপ্রান্তর, পথঘাট

মসজিদ, গির্জা, মন্দির

সব মিলেমিশে

অবশেষে, নিঃশেষে

এক দেশ, গোটা দেশ

হয়ে ওঠে জাহান্নাম,

জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি,

তখন কোথায় আশ্রয় দাও,

কোথায় লুকিয়ে রাখ

তোমার সুসন্তানদের?

যাদের তুমি ভালবাস,

যাদের জন্য করেছ

অঙ্গীকার

বেহেস্তের নহর ধারা

অমিয় সুধা?


আমি চাই না, চাই না, চাই না

তোমার শান্তির স্বর্গ।

তুমি হাত পেতে

নিয়েছ যে অর্ঘ

তারই বিনিময়ে

আমি চাইছি

তোমার কাছে প্রভু,

একমুঠো অন্ন

একটুকরো রুটি,

হল যে অনাথ,

সেই শিশুটির জন্য।

সেকি এতই বড় চাওয়া?


স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল

সৃষ্টিকারী,

হে মহাবিক্রম-শালি

রাজাধিরাজ,

দিনান্তের অস্ত সুর্য

ঢলে ঐ তুরাগের বুকে

পাব কি জবাব?

যে শিশু ভূমিষ্ঠ

হল আজ রাতে

নির্মল, নিষ্পাপ

এল তোমারি

বেহেস্তি নুরে সিক্ত হয়ে

কেন তার হবে

অন্নের অভাব

তোমারি ভুবনে?



Tuesday, June 30, 2026

একটি কবিতার আশায়

 

কবিতা ঈশ্বরের দান

কবিতা কেউ কখনো লেখে না

কবিতা লেখা যায় না

যখন শব্দেরা ইন্দ্রের সভা থেকে

উর্বশীর হাতের ছোঁয়ায় মায়াবি

সৌরভে সিক্ত হয়ে মর্ত্তে নেমে এসে

কবির অন্তরে প্রবেশ করে

তখনই জন্ম হয় কবিতার।


পদ্ম অনেক আছে রকমারি ছন্দে

কখনো বা ছন্দবিহীন

নিপুন কারুকার্য ইলোরার ভাস্কর্যের মত।

পাখির নীড়ের মত চোখ নিয়ে

সে তাকায় বনলতা সেনের রহস্যের কুয়াশায় ।

কিন্তু কবিতা? সে তো পাহেলগামে

পাথরের নূড়ির উপর বয়ে যাওয়া

ঝলমলে পাহাড়ি ঝোরা সোনারোদ মাখা।


তবুও পদ্ম কখনো কবিতা হবার প্রয়াসে

কখনো নিছক আনন্দহাস্যরসে, কখনো বা

বিদ্রুপে সহস্র অনুভূতি মেখে,

পাখা মেলে, হেমন্তের অলস দুপুরের মতন

আর এসে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে

মুছে যায় সময়ের প্রলেপে


আমিও তো সেই কবে থেকেই লিখে চলেছি

শুধু একটা কবিতা, বিদ্রোহির মতো

শুধু একটা কবিতা, তোমার সৃষ্টির পথের মতো,

যা কিনা আমার বুকের সমস্ত অনুভূতি নিংড়ে নিয়ে

পৌঁছে দেবে আরেকটি বুকের ভেতর

ভালোবেসে, নিঃশেষে