কবিতা ঈশ্বরের দান
কবিতা কেউ কখনো লেখে না
কবিতা লেখা যায় না।
যখন শব্দেরা ইন্দ্রের সভা থেকে
উর্বশীর হাতের ছোঁয়ায় মায়াবি
সৌরভে সিক্ত হয়ে মর্ত্তে নেমে এসে
কবির অন্তরে প্রবেশ করে
তখনই জন্ম হয় কবিতার।
পদ্ম অনেক আছে রকমারি ছন্দে
কখনো বা ছন্দবিহীন
নিপুন কারুকার্য ইলোরার ভাস্কর্যের মত।
পাখির নীড়ের মত চোখ নিয়ে
সে তাকায় বনলতা সেনের রহস্যের কুয়াশায় ।
কিন্তু কবিতা? সে তো পাহেলগামে
পাথরের নূড়ির উপর বয়ে যাওয়া
ঝলমলে পাহাড়ি ঝোরা সোনারোদ মাখা।
তবুও পদ্ম কখনো কবিতা হবার প্রয়াসে
কখনো নিছক আনন্দ, হাস্যরসে, কখনো বা
বিদ্রুপের সহস্র অনুভূতি মেখে,
পাখা মেলে, হেমন্তের অলস দুপুরের মতন
আর এসে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে
মুছে যায় সময়ের প্রলেপে ।
আমিও তো সেই কবে থেকেই লিখে চলেছি
শুধু একটা কবিতা, বিদ্রোহির মতো
শুধু একটা কবিতা, তোমার সৃষ্টির পথের মতো,
যা কিনা আমার বুকের সমস্ত অনুভূতি নিংড়ে নিয়ে
পৌঁছে দেবে আরেকটি বুকের ভেতর
ভালোবেসে, নিঃশেষে।

